প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৫ জানুয়ারি ২০১৭

মাননীয় মন্ত্রী

 

অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান , এমপি

মাননীয় মন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

 

জনাব মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৫৩ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর গ্রামের নাম জামগ্রাম। বাবা মোবারক হোসেন এবং মা শাহেদা খাতুন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি “ফিজার” নামেই সমধিক পরিচিত যা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বলয়ে একটি  সুপরিচিত এবং আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বের নাম ।    
 

একটি অরাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা সত্ত্বেও, মোস্তাফিজুর রহমান অত্যন্ত অল্প বয়সে, ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই রাজনীতিতে  প্রবেশ করেন। তিনি ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং এগারো দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার দর্শন এবং উদ্দেশ্যের প্রতি গভীর  দায়িত্বশীলতার কারণে, তিনি কৃতিত্বের সাথে সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে এসএসসি এবং ফুলবাড়ি কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মোস্তাফিজুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা (এফ.এফ)  হিসেবে তালিকাভুক্ত হন, এবং সেক্টর-৭ এর অধীনে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে লড়াই করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে তিনি দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগ -এর জেলা সম্মেলন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর ১৯৭৩ সালে তিনি ফুলবাড়ি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ফুলবাড়ী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জি.এস ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  ১৯৭৭ সালে সমাজ বিজ্ঞানে  মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ১৯৮৬ সালে  আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।            

 

একজন অত্যন্ত প্রবীণ এবং অক্লান্ত কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হন এবং  দলের কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ফুলবাড়ি থানা আওয়ামী লীগ এর- সাংগঠনিক সম্পাদকও নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে  তিনি দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ -এর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত উক্ত পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি  কাউন্সিলের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগ -এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বগুণে তিনি পরপর তিনবার জেলা আওয়ামী লীগ -এর সাধারণ সম্পাদক  নির্বাচিত হন এবং ২১ বছর উক্ত পদে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তিনি জেলা আওয়ামী লীগ -এর সভাপতি  নির্বাচিত হন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ -এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য  নির্বাচিত হন।    

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান -এর বর্বর হত্যাকাণ্ডের পর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং সে কারণে  ১৩ অক্টোবর ১৯৭৫ সালে  তাঁকে সেনা হেফাজতে নিয়ে একমাস হয় আটক রাখা হয়। গনতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে ১৯৯০ সালে জেলে প্রেরণ করা হয়।  

 

জনাব মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মত নির্বাচনী এলাকা ১০, দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ি- পার্বতীপুর) থেকে জাতীয়  সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একাদিক্রমে আরও পাঁচবার (১৯৯০,১৯৯৬,২০০১,২০০৮ এবং ২০১৪) তিনি  মাননীয় সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হন। তাঁর নিষ্ঠা, কঠোর  পরিশ্রম এবং সাহসী নেতৃত্বের গুণে জনগণ তাঁকে পরপর ছয়বার এই পদে  নির্বাচিত করেন। তিনি ২০০৯   সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ও দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে ৩১  জুলাই ২০০৯ থেকে ২১ নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত  ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।       

 

অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে অদ্যাবধী এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৫ বছর যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এবং ১০ বছর পাবলিক অ্যাকাউন্টস্‌ কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০০ সালে তিনি ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।  

 

অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান জাতিসংঘের ৫৪তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও  তিনি অস্ট্রেলিয়া,  থাইল্যান্ড,জার্মানী, ভারত, মালয়েশিয়া এবং ইউএসএ -সহ বিভিন্ন দেশে কর্মশালা এবং সম্মেলনে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত।   অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৭৯ সালে রাজিনা রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে  তিনি ফারহানা রহমান এবং ফারজানা রহমান নামে দুই কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক।


Share with :